জার্মানিতে শীত এলেই চারদিকে নেমে আসে উৎসবের আমেজ। দেশজুড়ে এখন লেগে আছে ক্রিসমাস মেলার রঙিন সাজ।
জার্মানির ঐহিত্যবাহী ক্রিসমাস মেলা মূলত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে বড় দিনে (২৩ ডিসেম্বর) শেষ হবে। কোনো কোনো শহরে নববর্ষের পূর্ব পর্যন্তও মেলা চলমান থাকে। জার্মানির ক্রিসমাস মেলাটি দেশটির অন্যতম শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। এ সময় মাসজুড়ে পুরো জার্মানির শহরগুলোতে আলো, গান আর সুস্বাদু খাবারের সুবাসে তৈরি হয় এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ।
ক্রিসমাস মেলার ইতিহাস
জার্মানিতে ক্রিসমাস মেলার সূচনা প্রায় ৬০০ বছর আগে। ধারণা করা হয়, ১৫শ শতকের দিকে জার্মানির প্রাচীন শহর ড্রেসডেন ও লাইপজিগে প্রথম এমন মেলা বসতে শুরু করে। ধীরে ধীরে শীতের কঠিন সময়ে মানুষজনের কেনাকাটা, বিনোদন ও মিলনমেলার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে এই বাজারগুলো। পরবর্তীতে পুরো জার্মানি এবং এখন ইউরোপজুড়ে এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জার্মানির ক্রিসমাস বাজারগুলো এখনো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের জন্য বিশেষভাবে স্বীকৃত।
ক্রিসমাস মেলার সংখ্যা
প্রতিবছরের মতো এবারও জার্মানির বিভিন্ন শহরে প্রায় তিন হাজারটি ক্রিসমাস মেলা বসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়গুলো হচ্ছে রাজধানী বার্লিনে। শুধুমাত্র বার্লিনেই ৭০টিরও বেশি ক্রিসমাস মেলা হচ্ছে এবার। এছাড়া মিউনিখে ঐতিহ্যবাহী মারিয়েনপ্লাটস এলাকায়, কোলন শহরের ক্যাথেড্রাল এরিয়া, নুরেমবার্গের বিশ্ববিখ্যাত ক্রিস্টকিন্ডলেস মার্কেট আর ড্রেসডেনের স্ট্রিজেলমার্কের্টে জাঁকজমকপূর্ণ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়াও হামবুর্গ, স্টুটগার্ট, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও হ্যানোভারসহ দেশের শত শত শহর ক্রিসমাসের লাল আলোয় সেজে উঠেছে।
অর্থনীতিতে অবদান
জার্মানির ক্রিসমাস মেলা এখন শুধু উৎসবই নয়, অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতিবছর এই বাজারগুলোতে কয়েক কোটি দর্শনার্থী ভিড় করে। বিশেষ করে অক্টোবর ফেস্টের পর ইউরোপ ও ইউরোপের বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী জার্মানিতে এই মেলা দেখতে আসেন। ধারণা করা হয়, ক্রিসমাস মেলার মোট অর্থনৈতিক লেনদেনের পরিমাণ বিলিয়ন ইউরো । খাবার-পানীয়, হস্তশিল্প, উপহারসামগ্রী, সাজসজ্জাসহ নানান পণ্য বিক্রি হয় এসব মেলায়। পর্যটন খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে হোটেল বুকিং, পরিবহন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা ও স্থানীয় কারিগরদের আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এই মেলা।
জার্মানিতে পড়তে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জুবায়ের বলেন, শীতের কঠোরতার মাঝেও জার্মানির মানুষ আর পর্যটকদের কাছে এই মেলাগুলো আনন্দ, আড্ডা ও বিনোদনের এক অনন্য কেন্দ্র। হট ওয়াইন, জিঞ্জারব্রেড, সসেজ, হস্তশিল্পের দোকান, রঙিন ক্যারোসেল সব মিলিয়ে ক্রিসমাস মার্কেট হয়ে উঠেছে শীতের সবচেয়ে প্রিয় উৎসবমুখর আয়োজন।
আরেক শিক্ষার্থী সামশাদ তন্ময় বলেন, ক্রিসমাস মেলা অনেকটা বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখের মতো। এই ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলো কেবল উৎসবই নয় বরং জার্মানির সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকে নতুন মাত্রায় সমৃদ্ধ করছে প্রতি বছর।










