রাত পোহালেই উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছেড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। ঈদের আগের দিন বুধবারও (২৭ মে) বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল ঘরমুখো মানুষের পদচারণা। কেউ কাঁধে ব্যাগ, কেউ হাতে শিশুদের খেলনা, আবার কেউ পরিবারের জন্য কেনা ঈদের উপহার নিয়ে ছুটেছেন গ্রামের বাড়ির পথে। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় বাস ও লঞ্চে যাত্রীচাপ কিছুটা কম দেখা গেছে। অন্যদিকে ট্রেনে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
গত রোববার (২৪ মে) অফিস শেষ হওয়ার পর থেকেই মূলত ঈদযাত্রা শুরু হয়। এরপর প্রতিদিনই বাড়তে থাকে ঘরমুখো মানুষের চাপ। বিশেষ করে সোমবার ও মঙ্গলবার বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ছিল যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। তবে ঈদের আগের দিন হওয়ায় বুধবার বিকেল থেকে সেই চাপ অনেকটাই কমে গেছে।
রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা ছাড়া মানুষের তেমন ভিড় নেই। একই অবস্থা দেখা যায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। তবে গত কয়েকদিনের মতো আজ সকালেও কমলাপুর ট্রেন স্টেশনে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল। টিকিট না পাওয়ায় অনেকেই বৃষ্টির মধ্যেই ট্রেনে ছাদে চেপে গ্রামের বাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন।
গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাইফুল হক মিঠু জানান, বৃষ্টির কারণে সকালে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করা মানুষগুলো বেশ দুর্ভোগে পড়েন। বৃষ্টির মধ্যেই গাবতলী থেকে দূরপাল্লার বিভিন্ন পরিবহন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। তবে দুপুরের দিকে গাবতলীতে ঘরমুখো মানুষের তেমন ভিড় দেখা যায়নি।
মিঠু জানান, পরিবহগুলোর কাউন্টারের দায়িত্বপালন করা কর্মীরা জানিয়েছেন রাতে শেষ মুহূর্তে যাত্রীদের কিছুটা চাপ হতে পারে। তবে ঈদ করতে যারা গ্রামের বাড়ি যাবেন, অধিকাংশই গত দুই দিনে চলে গেছেন। ফলে এখন গাবতলী যাত্রীর ভিড় নেই।
মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন জানান, বুধবার সেখানে ঘরমুখো মানুষের ভিড় ছিল তুলনামূলক কম। শুধু একটি পরিবহনের কাউন্টারের সামনে কিছুটা যাত্রীচাপ দেখা গেলেও অধিকাংশ কাউন্টারই প্রায় ফাঁকা ছিল। ফলে যাত্রীরা তেমন ভোগান্তি ছাড়াই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে পেরেছেন।
তিনি আরও জানান, টিকিট পাওয়া নিয়ে যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে একটি পরিবহনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। পাশাপাশি কিছু বাস নির্ধারিত সময়ের পরে ছাড়ায় ভোগান্তির কথাও জানান কয়েকজন।
সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মুহাম্মদ ফজলুল হক মৃধা জানান, সোমবার ও মঙ্গলবার এসব এলাকায় ঢাকা ছাড়তে মানুষের ব্যাপক ভিড় ছিল। এ সময় গাড়ি ছাড়তে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী।
তবে বুধবার সকাল থেকেই সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীতে ঘরমুখো মানুষের চাপ তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। যাত্রীসংখ্যা কমলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পুরোপুরি থামেনি। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে বাস না পাওয়া এবং সকালে বৃষ্টির কারণে অনেক যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
কমলাপুর ট্রেন স্টেশন ঘুরে জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক অভিজিৎ কৌশকি জানান, গত কয়েকদিনের মতো আজ সকালেও বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। ভিড়ের কারণে অনেকেই নিজ আসনে বসতে বিড়ম্বনায় পড়েন। এছাড়া টিকিট না পাওয়ায় অনেকেই সকালের বৃষ্টির মধ্যেই ট্রেনের ছাদে যাত্রা করেন।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে জাগো নিউজের ফটো সাংবাদিক বিপ্লব দিক্ষিৎ জানান, বুধবার বিকেলেও লঞ্চে যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল। তবে গত দুই দিনের তুলনায় ভিড় অনেকটাই কম। কিছু কিছু লঞ্চে আসন ও জায়গা ফাঁকাও দেখা গেছে, ফলে যাত্রীরা স্বস্তিতে গন্তব্যে যেতে পারছেন।
বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এক নারী যাত্রী বলেন, ‘আমি, আমার বোনের মেয়ে ও আমার মেয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। বাসের তুলনায় লঞ্চে ভাড়া কম হওয়ায় বাসে না গিয়ে লঞ্চে যাচ্ছি।’









