মার্কিন বাহিনীর হামলায় ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনায় ওয়াশিংটনকে জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারত সরকার বলেছে, চলতি সপ্তাহে ভারতীয় ক্রু থাকা তিনটি ট্যাংকারে মার্কিন হামলা হয়েছে, যার একটিতে তিন নাবিক নিহত হয়েছেন।
এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। ওই অবরোধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনী আটটি জাহাজ অকার্যকর করেছে এবং শতাধিক জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই ধরনের হামলা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে এবং এর অবসান ঘটাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের পক্ষেও আহ্বান জানাই, যাতে অঞ্চলটিতে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
জয়সওয়াল জানান, চলতি সপ্তাহে ভারতীয় নাবিক থাকা তিনটি জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনী হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে বৃহস্পতিবারও একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ওমান উপকূলের কাছে ‘সেত্তেবেলো’ নামের একটি ট্যাংকারে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর বুধবার নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ভারতের গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ‘সেত্তেবেলো’ জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে নির্ভুল বিমান হামলা চালানো হয়, কারণ জাহাজটির ক্রুরা মার্কিন বাহিনীর নির্দেশ বারবার অমান্য করেছিল।
সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহনের মাধ্যমে চলমান অবরোধ লঙ্ঘন করছিল।
অন্যদিকে জাহাজটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আইওএস মেরিন এফজেডই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, জাহাজটি কোনো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেনি এবং এতে ইরানি তেলও বহন করা হচ্ছিল না।
এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সেত্তেবেলোর সঙ্গে ইরান বা ইরানি তেলের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
ঘটনার আন্তর্জাতিক ও স্বচ্ছ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
হামলার পর জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ওমানের নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালায়। এতে ২১ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়।









