পোল্যান্ডে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সেনা মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়ায় ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছেন ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে।
ডানপন্থি পোলিশ প্রেসিডেন্ট কারোল নওরকির-এর নির্বাচনে বিজয়ের পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, বর্তমানে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নওরকির সফল নির্বাচনের ভিত্তিতে-যাকে সমর্থন দিতে পেরে আমি গর্বিত এবং তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কারণে আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, যুক্তরাষ্ট্র পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ৫ হাজার সেনা পাঠাবে।
এই সিদ্ধান্তে পোল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের কর্মকর্তারাই বিস্মিত হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প সম্ভবত এ বিষয়ে কারও সঙ্গে আগাম পরামর্শ করেননি।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পেন্টাগনের কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না বলেই মনে হয়েছে। এমনকি প্রতিরক্ষা দপ্তর এ বিষয়ে সব প্রশ্ন হোয়াইট হাউসের দিকে পাঠাচ্ছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও ওয়ারশর সরকারি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, দুই রাজধানী কিংবা ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কেউই এমন সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করেনি।
এই ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দুই দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা বিলম্বিত হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে জোরালো জল্পনা ছিল যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপ মহাদেশে মার্কিন সেনা সংখ্যা কমাতে পারে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পোলিশ প্রেসিডেন্ট নওরকি ট্রাম্পকে তার ‘বন্ধুত্বের’ জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তিনি ‘পোল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র জোটের পাহারায়’ নিযুক্ত থাকবেন। তিনি এই জোটকে ‘প্রতিটি পোলিশ পরিবারের এবং সমগ্র ইউরোপের নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘পোল্যান্ড এবং পোলিশ নাগরিকদের নিরাপত্তাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে পোল্যান্ডের দায়িত্ব গ্রহণকারী নওরকির সঙ্গে গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। সে সময় মার্কিন নেতা পোল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।
পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলাদেলো কোসিনিয়াক এক্সে লিখেছেন, অতিরিক্ত সেনা পাঠাতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ‘পোল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী’ এবং ‘পোল্যান্ড একটি আদর্শ ও নির্ভরযোগ্য মিত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজ দেশের নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়গুলোতে আমরা একসঙ্গে লড়াই করছি-এটি ভালো বিষয়। এই দায়িত্বই কার্যকারিতায় রূপ নিচ্ছে।’
এদিকে শুক্রবার(২২ মে) ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে। সুইডেনে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে তিনি বলেন, ‘ন্যাটোর সামরিক কমান্ডাররা সব বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কাজ করছেন।’
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, সরকার ‘আমাদের মার্কিন মিত্রদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার এবং তাতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।’
টাস্ক বলেন, ‘আমাদের মার্কিন মিত্রদের বুঝতে হবে যে পোল্যান্ড, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক শৃঙ্খলার নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে ঘনিষ্ঠ ও সমন্বিত সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ-যার মধ্যে পোল্যান্ডে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতিও রয়েছে।’









