ভেনেজুয়েলা ও ইরানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কিউবা। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধে ক্যারিবীয় দেশটি যখন বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত, ঠিক তখনই ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, কিউবা ‘দখল’ করার সম্মান তিনিই পেতে যাচ্ছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
‘যা ইচ্ছা, তা-ই করতে পারি’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, কিউবা বর্তমানে একটি অত্যন্ত দুর্বল রাষ্ট্র এবং তিনি দেশটির সঙ্গে যা খুশি করার ক্ষমতা রাখেন।
তিনি বলেন, ‘সারাজীবন আমি যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবাকে নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। যুক্তরাষ্ট্র কখন পদক্ষেপ নেবে? আমি বিশ্বাস করি, কিউবা দখলের সম্মান আমারই হবে। আমি একে মুক্ত করি বা দখল করি—আমি যা চাই তা-ই করতে পারি।’
প্রেসিডেন্টকে সরানোর আলটিমেটাম
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি হাভানার সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় সাত দশকের কমিউনিস্ট শাসন কাঠামো টিকিয়ে রেখে কেবল শীর্ষ নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে কিউবাকে নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় ওয়াশিংটন।
কিউবাকে যেভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিউবার প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই দ্বীপরাষ্ট্রটির ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন।
এর অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি, অন্য কোনো দেশ কিউবাকে তেল দিলে তাদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপেরও হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর ফলে দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিড কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং পুরো দেশ ব্ল্যাকআউটের কবলে পড়েছে।
‘ফ্রেন্ডলি টেকওভার’ কি সম্ভব?
ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একজন কিউবান অভিবাসীর সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই হাভানায় সরকার পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলছেন।
ট্রাম্প আগে এই প্রক্রিয়াকে ‘ফ্রেন্ডলি টেকওভার’ বা ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে ক্ষমতা গ্রহণ’ বললেও সোমবার সুর বদলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি বন্ধুত্বপূর্ণ না-ও হতে পারে।’
কিউবার পাল্টা জবাব
কিউবা বরাবরই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল গত শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক, তবে তা অবশ্যই সার্বভৌমত্ব, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং একে অপরের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে।









