পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিতে বান্দরবানে আগাম হোটেল বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে। আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের ৯০-১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ ছুটির দিন, শীত মৌসুম ও ঈদের ছুটিতে তা বাড়ে কয়েকগুণ। গত কয়েক বছর জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটক সমাগম কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে কোনো প্রকার বিধিনিষেধ না থাকায় জেলায় পর্যটকের সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভ্রমণে এসে আবাসন নিশ্চিত করতে আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ বান্দরবান সদরের প্রায় সব হোটেলের ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং করেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। ২১ ও ২২ মার্চের জন্যও ৪০-৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া অবশিষ্ট এই কয়দিনে ঈদ পরবর্তী ২১ থেকে ২৪ মার্চ শতভাগ কক্ষ বুকড হবে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।
হোটেল গার্ডেন সিটি ম্যানেজার মো. জহীরুল ইসলাম আরনান, ঈদ পরবর্তী ২১-২২ মার্চ ৫০ শতাংশ ও ২৩, ২৪ মার্চ দুই দিনের ইতোমধ্যে শতভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
হোটেল হিল ভিউর ম্যানেজার তামজিদুল হায়দার বলেন, তাদের হোটেলে আগামী ২১-২২ মার্চ ৬০ শতাংশ এবং ২৩-২৪ মার্চের জন্য ৯০শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে বান্দরবান ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।
হোটেল গ্রেন্ড ভ্যালীর ফ্রন্ট ডেক্স ম্যানেজার মো. মিজান উদ্দিন বলেন, তাদের হোটেলে ২১-২২ মার্চ বুকিয়ের সংখ্যা কম থাকলেও ২৩ ও ২৪ মার্চের জন্য ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
হোটেল স্কাই ব্লুয়ের ম্যানেজার আব্দুলাহ আল মামুন তাদের হোটেলেও ২১ ও ২২ মার্চ আগাম বুকিং কিছুটা কম হলেও ২৩ -২৪ মার্চের জন্য ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
লামা রিসোর্ট মালিক সমতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রফিক বলেন, তাদের কাছে ৫২টি রিসোর্টের মধ্যে ভালো মানের যেগুলো রয়েছে ঈদুল আযহার ছুটি উপলক্ষে সেসব রিসোর্টগুলোর অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশী পর্যটকেরা।
বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটির কারণে পর্যটকদের ভালো সাড়া পাচ্ছেন। এরইমধ্যে ২৩-২৪ মার্চ জেলার অধিকাংশ কটেজ ও আবাসিক হোটেলগুলোতে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বাকি দিনগুলোতে অন্যগুলিও শতভাগ বুকিং পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। এছাড়া পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।









