
গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সুইডেনের স্টকহোমে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বিকালে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে রাজধানীর কর্মক্লান্ত মানুষ যখন ছিলেন গভীর নিদ্রায় অচেতন, তখন সেই নিরপরাধ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর ট্যাংক, মর্টার, মেশিনগান, রাইফেলসহ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানের হানাদার সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা চালায় তারা।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ছিল সেই গণহত্যার ৫৪তম বার্ষিকী। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি স্মরণ করা হয়। সুইডেনের স্টকহোমে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়।
এরপর এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।
এরপর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বমানবতার ইতিহাসে একটা কালো অধ্যায়। সেদিন অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। বক্তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার অঙ্গীকার করেন।
আলোচনা শেষে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদেরর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।