
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন একটি খসড়া খনিজ চুক্তিতে একমত হয়েছে। মঙ্গলবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
খসড়া চুক্তির বিষয়বস্তুর সাথে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, খসড়া চুক্তিটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেয়া হয়নি তবে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইউক্রেন মুক্ত, সার্বভৌম এবং নিরাপদ থাকুক।
চুক্তির সাথে পরিচিত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এবং কিয়েভের মধ্যে ভবিষ্যতের অস্ত্রের চালান নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
এদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, এই চুক্তিটি সই করতে আগামী শুক্রবার ওয়াশিংটনে আসবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধের পর চুক্তির খসড়া করতে রাজি হলেন ট্রাম্প এবং জেলেনস্কি।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তিকে কিয়েভকে দেয়া ওয়াশিংটনের কোটি কোটি ডলার সাহায্যের প্রতিদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, সংঘাত শেষ করার জন্য চুক্তি কার্যকর হলে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী সেনার প্রয়োজন হবে।
তবে তিন বছর আগে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করা মস্কো, ন্যাটো বাহিনীর কোনো সদস্য মোতায়েনের কথা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ বলেছে যে তারা ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে ইচ্ছুক। কিন্তু সোমবার ট্রাম্প বলেন মস্কো এই ধরনের শান্তিরক্ষীদের গ্রহণ করবে, কিন্তু মঙ্গলবার ক্রেমলিন তা অস্বীকার করে।
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পের তাড়াহুড়ো এবং মস্কোর প্রতি তার ঝোঁক ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যা ইউক্রেন এবং ইউরোপের নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তন করতে পারে।
এর আগে যুদ্ধকালীন সাহায্য করার জন্য ওয়াশিংটনকে পরিশোধে ইউক্রেন থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন জেলেনস্কি। বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেয়নি।
এছাড়া খনিজ নিয়ে চুক্তি না করলে দেশটিতে স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার হুমকিও দেয় যুক্তরাষ্ট্র।