ইউরোপিয়ান নারী ফুটবলে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলো বার্সেলোনা। নরওয়ের অসলোতে অনুষ্ঠিত উয়েফা উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ফরাসি জায়ান্ট অলিম্পিক লিওঁকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ফাইনালে বার্সেলোনার জয়ের নায়ক ছিলেন ইভা পায়োর ও সালমা পারাল্লুয়েলো। দুজনেই করেছেন জোড়া গোল। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় কাতালানরা।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আটবারের চ্যাম্পিয়ন লিওঁ। ১৪ মিনিটে ওয়েন্ডি রেনারের হেড বার্সেলোনা গোলরক্ষক কাতা কোল ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করেন লিন্ডসি হিপস। তবে ভিএআরের সহায়তায় গোল বাতিল হয়ে যায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ তৈরির সময় অফসাইডে ছিলেন হিপস।
প্রথমার্ধে গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও বিরতির পর যেন ঝড় তোলে বার্সেলোনা। ৫৫ মিনিটে দলের হয়ে গোলের সূচনা করেন পোলিশ স্ট্রাইকার ইভা পায়োর। মাঝমাঠ থেকে পাত্রি গুইহারোর বাড়ানো বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোনাকুনি শটে লিওঁ গোলরক্ষক ক্রিশ্চিয়ান এন্ডলারকে পরাস্ত করেন তিনি।
চলতি মৌসুমের নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল পায়োরের ১০ম গোল। ৬৯ মিনিটে আবারও গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। এসমি ব্রুগটসের ক্রস থেকে ক্লদিও পিনা প্রথমে সুযোগ নষ্ট করলেও বল মাঠের বাইরে যেতে দেননি সালমা পারাল্লুয়েলো। এরপর তার পাস থেকে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন পায়োর।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণে মরিয়া হয়ে ওঠে লিওঁ। তবে সেই সুযোগেই ম্যাচের শেষদিকে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বার্সেলোনা।
নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শটে গোল করেন সালমা পারাল্লুয়েলো। তার শটটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এন্ডলারের কিছুই করার ছিল না।
যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন এই স্প্যানিশ তারকা। এবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন পায়োর নিজেই। ডান দিক থেকে বল বাড়িয়ে দেন পারাল্লুয়েলোর দিকে, আর তিনি সহজেই বল জালে জড়িয়ে লিওঁর পরাজয় সম্পন্ন করেন।
শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এর মাধ্যমে নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের চতুর্থ শিরোপা জিতে ইউরোপিয়ান নারী ফুটবলে আধিপত্য আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করলো কাতালান ক্লাবটি।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে ইউরোপ সেরা হয়েছিল বার্সেলোনা। দুই বছর পর আবারও ইউরোপের মুকুট উঠল তাদের মাথায়।









